ইলুমিনাতি
১৭৭৬ সালের পহেলা মে জার্মানির দক্ষিণ পূর্ব বৃহত্তম রাজ্য ব্যাভারিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে এই সংগঠনটি। অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট এর হাত ধরেই তার ৪ জন ছাত্র নিয়ে অশুভ যাত্রা শুরু করে। তিনি ব্যাভারিয়া ইঙ্গল স্ট্যাড ইউনিভার্সিটির খ্রিষ্টীয় আইন ও ব্যাবহারিক দর্শনবিদ্যার প্রফেসর ছিলেন। প্রথম ইলুমিনাতির লোগো নির্ধারণ করা হয় গ্রিক জ্ঞানদেবী মিনারভার পেঁচা। পরবর্তীতে মিশরের পিরামিড, মধ্যখান এ দাজ্জালের সিম্বল এক চোখ ও চার পাশে আলোকিত চিহ্ন ব্যাবহার করে সংগঠনের লোগো বানানো হয়।
আমি ইলুমিনাতির কিছু উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র মূলক কর্মকান্ড নিয়ে তাদের জন্মদিন উপলক্ষে কিছু বলব।
১/ Novus ordo seclorum অর্থাৎ New World Order প্রকল্প হাতে নেয় এ সংগঠন। পুরো বিশ্বে কোন দেশ বিভক্ত থাকবে না, সব এক ধর্ম এবং এক রাষ্ট্র ইহুদির তত্বাবধানে থাকবে।
২/ বিশ্বে তারা এক ধর্ম প্রসার করবে, যারা লুসিফার বা শয়তানের পূজা করবে। দাজ্জাল তাদের নেতা। অর্থাৎ জেসুইট সম্প্রদায়ের মত
৩/ মানুষকে কন্ট্রোল করার জন্য চাই সীমিত মানুষ। তাই তারা মানুষ জন্ম এর হার বিভিন্ন ভাবে কমিয়ে আনছে এবং মানুষের জন্মদান ক্ষমতা কমাচ্ছে খাবারে বিভিন্ন অপদ্রব্য মিশিয়ে। এইযে কম সন্তান জন্মদান সম্পর্কে উৎসাহিত করছে এটা তাদেরই মেগা প্রকল্প। তাছাড়া তারা গনহত্যাও চালায়, বাট ছদ্ম নামে। রোহিঙ্গা গণহত্যা, ফিলিস্তিনে এ সব। মূলত মুসলিম নিধন, যারা তাদের পথের কাটা।
৪/ বিশ্বে বিভিন্ন অযাচিত বিপ্লব এবং অর্থনৈতিক মন্দার জন্য এরা দায়ী। সাম্প্রতিক ৯/১১ এর জন্যও তাদের দায়ী করা হয়। চলমান 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' ও দেশে দেশে পুলিশি রাষ্ট্র কায়েমের জন্য তাদের ঠুনকো অযুহাত।
৫/ ষড়যন্ত্র - ১/ নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল ইলুমিনাতি নির্ধারণ করে
২/ ফ্রেন্স বিপ্লবের সূচনা ইলুমিনাতিই করে।
৩/ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, কেনেডির গুপ্তহত্যা তাদেরই হাতে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুপ্তহত্যাও তাদের হাতে হবে। কার্ড তাই
বলছে।
৬/ সুদি ব্যাবস্থায় বিশ্বের ব্যাংকিং অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব।
৭/ নারী- নতুন এ ধর্মে নারীজাতিকে সম্মানের খাটিয়া থেকে সড়কে টেনে এনে কামুক পুরুষের মনোচাহিদা পূরণের এ মাস্টার প্লান তাদেরই।
৮/ জাতিসংঘ- এইযে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, বিশ্ব নিরাপত্তা, জাতিগত বন্ধুত্ব
এগুলো সব ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডারের প্রতিশব্দ। এছাড়া আরো অনেক পরিভাষা আছে
যেগুলো ইহুদিরা বিশেষ অর্থে ব্যাবহার করে। যেমন ধর্ম নিরপেক্ষতা,
মানবাধিকার, বিশ্বশান্তি, সন্ত্রাসবাদ, সুবিচার, সম অধিকার, লিঙ্গবৈষম্য,
নারী স্বাধীনতা।
একবার নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে জাতিসংঘের এ কর্মকান্ড গুলো দেখেন।
৯/ পেট্রোডলারের মাধ্যমে তেলের বিশ্বে থাবা।
১০/ HAARP হলো ইলুমিনাতির প্রাকৃতিক শক্তি। সংক্ষেপে বলি, এর মাধ্যমে যে কোন বড় ধরণের ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ঘটানোর ক্ষমতা ইলুমিনাতির আছে। ১৯৩৪ এর নেপাল বিহার ভূমিকম্প, ২০০৮ সালে চীনের ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ২০০২ সালে মার্চে আফগানিস্তানে ৭.২ মাত্রাএ ভূমিকম্পের জন্য এ প্রযুক্তিকে দায়ী করা হয়।
১১/ বার্মুডা ট্রায়াঙ্গেল, ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল এসব ইলুমিনাতির এজেন্ডা হিসেবে কাজ করে। পৃথিবীর মূল্যবান মেধা ও অনেক সম্পদ সেখানে গায়েব হয়। ইলুমিনাতির নিজস্ব সমৃদ্ধির জন্য এসব করছে।
১২/ মানুষদের কাবু করার জন্য তার আর্থিক সম্পদ ডিজিটালাইজড ব্যাংক সিস্টেমে আনা হচ্ছে। কেনা বেচা সব ডিজিটাল মানিতে, ডিজিটাল ব্যাংক একাউন্টে হবে। এতে আপনার টাকার উপর তারা প্রভাব ফেলবে। যখন তারা প্রকাশ্যে রাজত্ব শুরু করবে, তখন আপনি বিরোধীতা করলে আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দিবে। তখন পারবেন না কিছু কিনতে পারবেন না হাতে কিছু টাকা রাখতে। কিভাবে আটকাচ্ছে, দেখছেন! এটা এদের মাস্টার প্লানের অংশ।
১৩/ ইলুমিনাতির সাথে এলিয়েনের সম্পর্ক আছে এটা নতুন কথা নয়, শুরু থেকেই। এমনকি বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী মানুষদের হত্যা করে তাদের স্থলে তার প্রতিকৃতি এলিয়েন বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কে, বা কারা এলিয়েন, কেউই জানে না।
১৪/ দাজ্জালের আশায় মূলত আছে ইলুমিনাতি। তার জন্য পৃথিবী সাজাচ্ছে, সুপার মুনও হয়ে গেছে, জেরুজালেমকেও ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়ে গেছে। এখন শুধু তার আসার অপেক্ষা।
ইলুমিনাতির স্বল্প মাত্র বিষয় নিয়ে বললাম তাদের জন্মদিন উপলক্ষে। ভাবুন বিশ্ব কত অন্ধকারে। এসব মুভি, গেম, পর্ণসাইট সব ইলুমিনাতির ফাঁদ। একদিন মোবাইল ডাটা না থাকলে চলা যায় না। কত ভাবে আঁকড়ে ধরছে তারা আমাদের।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।
সিনহা
১/৫/২০২০


Comments
Post a Comment
Thanks for your Respons.