What is science seeking for? God or Emptiness?

বিজ্ঞান কি খুঁজে? স্রষ্টা নাকি শূন্যতা?

যেখানে কোন কিছু থাকার কথা ছিল না সেখানে এত কিছু কেন? আমাদের এখানে থাকার কারণ কি? আমরা যা দেখি সে বাস্তবতা কোন নিরিখে বিচার্য? বিশ্ব কোথা থেকে সৃষ্টি? পৃথিবীতে আপেল নিচে পরে, অন্য কোথাও কি আপেল উপরে উড়ে? বিধি কি সকল যায়গায় এক? আমাদের অস্তিত্যের রহস্যের রহস্য কি? ইতিহাস কি আমাদের তৈরি করছে নাকি আমরা ইতিহাস তৈরি করছি? বাস্তবতার স্বরূপ কি? মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে কি স্রষ্টার প্রয়োজন ছিল? স্রষ্টা কি সত্যই আছেন? স্রষ্টা কি পাশা খেলছেন?

এসব আমাদের সকলের প্রশ্ন। কেও সব কিছুকে স্রষ্টার বিধি বলে বিশ্বাস করেন কেও করেন না। অধিকাংশের মাথা ব্যাথা নেই এ বিষয় নিয়ে। কিন্তু মাথা ব্যাথা শুরু হয় তাদেরই যারা আসল রহস্য ভেদ করতে চায়।

এসব প্রশ্নের সমাধান ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভানে করেছে। সুপার বিশ্বে বিধিগুলো যেন তালাবদ্ধ বাক্সের মধ্যে বাক্স। একটি বাক্স খোলার বিধির চাবি হাতে এলী, তা আমরা খুললাম, ভেতরে দেখলাম আরেকটা বাক্স। এভাবেই বাক্সটি আরেক বাক্স, যার শেষ আদৌ আছে কিনা, জানা নেই বিজ্ঞান মহলের, এমনকি নেই দর্শনেও। বর্তমান দর্শন মৃত, সকলে প্রমাণে বিশ্বাসী। সেখানে ধর্ম রয়েছে বিশ্বাস সংমিলিত পবিত্রতা নিয়ে।

মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক সেখানে আমাদের অনেকেরই বিজ্ঞান কর্তৃক প্রদত্ত কতগুলো তত্ব সম্পর্কে জানা আছে। তন্মদ্ধে সর্বশেষ তত্ব হলো হকিং প্রদত্ত M-তত্ব। এম তত্ব সম্পর্কে অনেকে জানি অনেকে জানি না। আসলে এম তত্ব একক কোন তত্ব না বরং এ পর্যন্ত দেওয়া মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কিত সকল তত্বের একটি সংমিলিত রূও অর্থাৎ একটি নিদৃষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হন যার সম্ভাবনা আছে অর্ধেক। এম তত্ব হকিং সম্পর্কে তত্ব।

মহাবিশ্বের শুরু হয়েছে এক একক অনন্যতা থেকে অর্থাৎ One Singularity থেকে। ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে এই অনন্যতায় এক বিস্ফোরণ ঘটে যার ফলে এই সুপার বিশ্ব সৃষ্টির সূত্রপাত হয় এবং স্থান ও কাল একই সময়ে যাত্রা শুরু করে। বিগ ব্যাং নিয়ে প্রথম ধারণা দেন রোমান ক্যাথলিক পাদ্রি ও পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর জর্জ লেমাইতার ১৯২৭ সালে। পরে হকিং এসে সে তত্বকেই তত্বের মাধ্যমে সম্ভাবনায় প্রমাণ করে। কিন্তু আমি বলব এই তত্ব ১৪০০ বছর আগের কোর আনে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। (রেফারেন্সঃ সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩০)

হকিং এর তত্ব মতে, বিশ্ব একসময় এক একক অনন্যতায় ছিল। এর পর বিস্ফোরণ সংগঠিত হয় এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ শুরু হয়। যার সম্প্রসারণ গতি দিন দিন বাড়ছে। এ ঘটনা ঘটে ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে। এম তত্ব আমাদের একক বিশ্ব নয় বরং বহু বিশ্বের প্রস্তাব দেয়। এম তত্বে প্রস্তাবিত সম্ভাবনাময় মহাবিশ্বে সংখ্যা ১০৫০০ টি। এই মহাবিশ্ব সব গুলো নিজ নিজ নিজস্ব বিধিতে চলছে যা প্রকৃতি নিজে তাকে দিয়েছে। এম তত্ব মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে স্রষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুচ্ছ মনে করে।
এ হচ্ছে সাধারণ ধারণা এম তত্ব সম্পর্কিত।

এবার আসি এ তত্ব জানার পর আমার মনের জাগা প্রশ্ন।

*যে মহাবিস্ফোরণ ঘটল তা কেন ঘটল? যখন একক শূন্যতায় ছিল সব তখন ঠিক কোন কারণে সেটা ঘটেছিল?
শুনেছি প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট।
যখন কাল স্থান দুটোই ছিল না তখন প্রকৃতি এলো কোথা থেকে?
*প্রকৃতি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করে নিয়েছে বিধি অনুসারে? যখন প্রকৃতি ছিল না তখন বিধি আসল কোথা থেকে?
*প্রকৃতি বিধিকে জন্ম দিয়েছে নাকি বিধি প্রকৃতিকে জন্ম দিয়েছে? যদি প্রকৃতি বিধিকে জন্ম দেয় তবে প্রকৃতি সৃষ্টি হলো কিভাবে? যদি বিধি প্রকৃতিকে জন্ম দেয় তবে প্রকৃতির অনুপস্থিতিতে বিধি আসল কি করে?
*বলা হয়েছে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে মহাবিশ্ব জন্ম নিয়েছে। যখন সব একক অনন্যতায়, কাল আর স্থানের সবে মাত্র জন্মক্ষণ, প্রকৃতির জন্ম ক্ষণ তখন কণা আসবে তখন কিভাবে? ফ্লাকচুয়েশনের কথা পরে হোক।
*তিনি প্রস্তাব করেছেন বহুবিশ্বের কথা। আবার সব বিশ্বের সৃষ্টি একটি একক অনন্যতা থেকে। তবে বিশ্ব গুলো আলাদা হলো কি করে?

*আচ্ছা ধরে নিলাম বহুবিশ্বের মতবাদ। তবে আমাদের মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ হচ্ছে, এভাবে সম্প্রসারিত হতে হতে কি এক সময় অন্য বিশ্বগুলোর সাথে মিলে যাবে?
*১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে মহা বিস্ফোরণ ঘটেছে সময়টা এর আগে বা পরে হলো কেন? এর ক্ষেত্রে বিধি কি?
*মহাবিশ্ব সম্পসারিত হচ্ছে, তবে কোথায় সম্প্রসারিত হচ্ছে? যেমনঃ বাতাস ছড়িয়ে পরার জন্য স্থান দরকার যেখানে বাতাস ছড়িয়ে যাবে। তবে মহাবিশ্বের এই কাল ও স্থান কোথায় ছড়িয়ে যাচ্ছে? যততটুকু মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়েছে তার অপর পাশে কি আছে? তা কি হকিং বলেছেন?
*যদি বলেন তা একক অনন্যতা, তবে ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে একাধিক একক অনন্যতা ছিল? তাহলে তো একক অনন্যতার মূল ভাব কে অর্থহীন করে।
*বিকিরণ তাপমাত্রার পার্থক্য যা নাসার কব আর ওয়াম্প স্যাটেলাইট দেয়, তা বিগ ব্যাং তত্বের গানিতিক হিসেবের সাথে মিলল না কেন?
*পৃথিবীর এক্সট্রেনসিটির মান কেন একের কাছে হয় নি? যার মান ০.২ বা ২%। কোয়ার্কের ভরের যোগ ফলের হিসেবে প্রোটন তৈরিতে হিসেব যদি ১০% বেশি হত তবে বিশ্ব যা দিয়ে তৈরি তার কম সংখ্যক পরমাণু নিউক্লিয়াসে অবশিষ্ট থাকত, তবে এ বিশ্ব তৈরি হতে পারত না। প্রকৃতি আসার আগে কোন বিধি এই গানিতিক হিসেবটা করল?

শেষ হলো প্রশ্নের অধ্যায়। প্রশ্ন গুলো আপনার মনে আরো প্রশ্নের উন্মেষ ঘটায়। আমাকে স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার মস্তিষ্ক দৃঢ় বিশ্বাস জাগায়।

তাই হকিং এর মত বলতেই হয় ' হে ঈশ্বর, তুমি এমন বিধি কেন দিলে যার অর্ধেক বুঝি অর্ধেক বুঝি না'

(প্রশ্ন গুলোর এন্সার জানা থাকলে বলবেন অবশ্যই। আমার জানার অনেক ঘাটতি আছে মহাকাশ বিদ্যা আর কণা সম্পর্কে। ভূল আছে নিশ্চই আমার কথায়। ধরিয়ে দিবেন দয়া করে।)

  সিনহা

৩ এপ্রিল ২০২০

Comments