আমাদের ভাবনা কতটুকু?
পশ্চিমা বিশ্বে আধুনিকতার নামে আমরা যে তথাকথিত সভ্য নামে অসভ্য সংস্কৃতির চর্চাশীল হচ্ছি তা কজনেই বা ভেবে দেখছে? ৬০ বছর আগেকার গ্রাম্য বাংলা আর বর্তমান আধুনিক বাংলার এক বিস্তর পার্থক্য আছে। একসময় লাটিম ঘুরিয়ে,
কানামাছি খেলে, হা ডু ডু তে দুরন্তপনা দেখিয়ে কিশোররা তাদের দূরন্ত কৈশর পার করত। স্বজাতীয়দের জন্য ছিল এক অদৃশ্য মায়ার টান। দেশের জন্য ছিল আকূল মমতা, মন ছিল দুর্দম, রক্তে ছিল তেজ আর জীবন ছিল রণক্ষেত্রের যুদ্ধ আর রাজপথের সংগ্রাম। জীবনের মায়া থেকে বিশ্বাসের যোগ্যতা তাদের মনকে বেশি আক্রান্ত করত। সব মিলিয়ে একটা সুস্থ আর সভ্য জাতীর গুণাগুণ এ জাতিতে ছিল।
আর বর্তমানের আধুনিক বাংলা? কথায় আছে নিজ চর্কায় তেল দেও, আমরা চাই নিজের চরকার তেল জমিয়ে রেখে অন্যের চরকার তেল নিজ পাম্পে ভরতে। আমার, আপনার সামনে একটা মানুষকে মারা হচ্ছে, আপনি, আমি দাড়িয়ে রঙ্গতামাশা দেখছি, ভিডিও করছি। মানুষের মৃত্যুর সংবাদ দেখে একটু উহ শব্দ করে চ্যানেল ঘুরিয়ে বিনোদন দেখছি৷ মানুষ হিসেবে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য কি এই উহ শব্দটিই যথেষ্ট?
ডিজিটালাইজড হচ্ছি ঠিকি কিন্তু মানুষ নামক পরিচয়টা ঘুচে পশু ট্যাগ লাগাচ্ছি বৈকি। আসলে এই সামাজিক পরিবেশের গোড়ায় গলদ আছে। ছোটবেলায় চার দেয়ালে বন্দী থেকে, পাঠ্যবই গলদকরণে, নিজের স্বার্থচিন্তায় মগ্ন থেকে যে জাতির সন্তানরা বেড়ে ওঠে সে জাতি কখনো সভ্য হতে পারে না। সে জাতির ভবিষ্যৎ এক কল্পনাতীত কালো অধ্যায়ের অপেক্ষায় থাকে যা ফলস্বরূপ বর্তমানের বংলা।
এ বাংলা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দেখা সে বাংলা না, এ বাংলা সালাম বরকত জব্বারের সেই বাংলা না, ৩০ লাখ শহীদের বাংলা এটা হতে পারে না। এ হলো মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায় বল্লভের স্বপ্ন দেখা সে বাংলা।
#সিনহা


Comments
Post a Comment
Thanks for your Respons.